সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে দেশটিতে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে তুরস্ক। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক এখন সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন কারিগরি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। গত সোমবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, তারা মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে যৌথ সামরিক সক্ষমতা অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।
তুরস্কের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছর থেকেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় আঙ্কারা কারিগরি দল, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করে রেখেছে। এবার এই সহায়তার পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে। তুর্কি সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আঙ্কারা নতুন করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, জরুরি উদ্ধারকারী দল এবং যুদ্ধসক্ষম সেনা সদস্যদের সৌদি আরবে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১০ সালের সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তির আওতায় সীমিত পরিসরে সহায়তা দেওয়া হলেও, নতুন করে স্থায়ী সেনা মোতায়েনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিলটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।’। মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রকল্পটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।’।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌদি আরবে একটি কমান্ড ঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুরো সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে কারিগরি দলগুলো এই ঘাঁটির প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করেছে। পার্লামেন্ট থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই অভিজ্ঞ তুর্কি পাইলট ও যুদ্ধবিমান সৌদি আরবে পাঠানো শুরু হবে। তবে কতজন সেনা বা কতটি যুদ্ধবিমান পাঠানো হবে, সেই সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তুর্কি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিই তাদের মূল লক্ষ্য এবং ইয়েমেনের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তুরস্কের নেই।
তুর্কি প্রেসিডেন্সির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ও শিক্ষাবিদ মুরাত ইয়েসিলতাশ জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তুরস্কের এই সম্পৃক্ততা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা নজরদারির মতো প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমিত থাকবে। এর ফলে রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তুরস্কের সামরিক ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তুরস্ক যে ঝুঁকি নেবে এবং সামরিকভাবে যতটা সম্পৃক্ত হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।’।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে যৌথ সমন্বয় ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালন করবে, পাশাপাশি তাদের নিজস্ব আলাদা কমান্ড ইউনিটও থাকবে। মূলত রিয়াদ, সৌদি আরবের পবিত্র শহরগুলো এবং পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশের সুরক্ষায় তুরস্ক এই সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। আঙ্কারা এখনো মনে করে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট সমাধানের পথ বেরিয়ে আসতে পারে। রিয়াদ, পবিত্র দুই শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন সুরক্ষা। পাশাপাশি তারা রিয়াদ ও দেশটির পবিত্র শহরগুলোর প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে।

















