ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি পৃথক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের বিমানবন্দরগুলো এই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এসব হামলায় ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন সাড়ে তিনশ’র বেশি বেসামরিক নাগরিক। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও এপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অন্তত দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এবং রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন সূত্রে এই এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বিমানবন্দর হামলার বিবরণ পাওয়া গেছে।
ধারাবাহিক এই হামলার ঘটনা শুরু হয় সোমবার (৫ অক্টোবর), যখন সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জাজানের কিং আব্দুল আজিজ এবং নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন আহত হন। এর পরের দিন, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুইজন নারী বাসিন্দা নিহত এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন।
বুধ ও বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ে। বুধবারের (৭ অক্টোবর) হামলায় একজন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও আটজন আহত হন। বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) হামলায় একজন পাইলটসহ অন্তত তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন। এরপর শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে, যাতে দুইজন বাংলাদেশি ও চারজন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। সবশেষে রবিবার (১১ অক্টোবর) কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ৪-এ নতুন করে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মামে কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ২ জন বাংলাদেশী এবং ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো হামলায় এক জন পাইলটসহ অন্তত ৩ জন সৌদি নাগরিক নিহত হন।
হুথিদের এই নজিরবিহীন আক্রমণ আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যার ফলে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই হামলাগুলোকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় পাল্টা বিমান হামলা জোরদার করেছে।
এদিকে, রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের এই হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় কুমিল্লার একজন মওলানা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তাইজ শহরের সুরক্ষায় সামরিক জোটের লড়াইয়ের মধ্যেই আকাশপথে এমন হামলা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

















