নড়াইল শহরের ভাদুলিডাঙ্গা এলাকায় ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার ভোররাতে শহরের ওই এলাকায় প্রকৌশলী মানিক বিশ্বাসের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, মুখোশধারী ছয় থেকে সাতজনের একটি ডাকাত দল বাড়ির উত্তর পাশের কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা অস্ত্রের মুখে বাড়ির সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। মানিক বিশ্বাস ঢাকায় থাকলেও তার বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমর কুমার বিশ্বাস এই বাড়িতে বসবাস করেন।
ডাকাতদের কবলে পড়া সমর কুমার বিশ্বাস জানান, ঘটনার সময় তিন-চারজন লোক তার রুমে প্রবেশ করে। তারা একটি গামছা ছিঁড়ে তার হাত বেঁধে ফেলে। এরপর তারা আলমারিতে থাকা নগদ ১০-২০ হাজার টাকা লুটে নেয়। তারা পরিবারের সদস্যদের অন্য একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে ভয় দেখায় যে, চিৎকার করলে বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে। যাওয়ার আগে ডাকাত দল তাদের সবার মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়। দুর্গাপূজা ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য বাড়িতে আসা আত্মীয়স্বজনের কাছে থাকা ৩০ থেকে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় এক লাখ টাকা এবং একটি ক্যামেরা তারা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমি আলমারি দেখায় দিয়ে বললাম, ‘আনুমানিক ১০-২০ হাজার টাকা আছে। পরে একটা গামছা ছিঁড়ে আমার হাত বাঁধে। এরপর আমাদের সবাইকে আমার ছোট মেয়ের রুমে নিয়ে বলে, ‘আপনারা চিৎকার করবেন না। আমরা চিৎকার করব না বলার পর সবকিছু লুট করে নিয়ে চলে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে সকালে নড়াইল সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার জানিয়েছেন, বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
উলেখ্য, মানিক বিশ্বাস নড়াইল পৌরসভার ভাদুলিডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত সুধীর কুমার বিশ্বাসের ছেলে। পূজার ছুটি ও পারিবারিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হওয়ায় বাড়িতে গয়না ও নগদ অর্থের পরিমাণ বেশি ছিল, যা ডাকাতদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।











