জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে দুর্নীতি, বৈষম্য এবং ষড়যন্ত্রের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে বলেছেন। আগামীকাল ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ঐতিহাসিক এই দিনটিকে জাতীয় জীবনে অবিস্মরণীয় এবং দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষ্যমতে, সেই সময়ে তাবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের কঠিন প্রতিকূলতার মুখে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমেই দেশ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায় এবং সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। ওই ক্রান্তিকালে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সিপাহি ও জনতার সেই সংহতিকে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একই চেতনা ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে পুনরায় জাগ্রত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের সুদৃঢ় ঐক্যের ফলে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অতীতে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং অর্থনৈতিক মুক্তির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
বর্তমানে জাতীয় অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জাতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং জাতীয় সংসদকে এর কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, যেখানে জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যে যাত্রা শুরু করেছে, তাকে সফল করার আহ্বান জানান তিনি।

















