কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বাকশিমুল ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদকে হত্যাচেষ্টার মামলায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সবুজকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গত ৫ নভেম্বর শুনানিতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত এই নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের মাশরা এলাকায় মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা সুলতান আহমেদ ও তার ছেলে শাহরিয়ার হোসেন শুভকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সুলতান আহমেদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় এনামুল হক সবুজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন রহিম খান লিটন, এহসানুল হক, মো. কামাল হোসেন, বাহার মিয়া ও মো. মিঠুসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজন। জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের মাশরা এলাকায় মাধবপুর গ্রামের বিএনপি নেতা মুহাম্মদ সুলতান আহমেদ ও তার ছেলে শাহরিয়ার হোসেন শুভকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুলতান আহমেদ গত শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বুড়িচং থানায় একটি মামলা করেন। অন্যরা হলেন, একই এলাকার তফাজ্জল খানের ছেলে রহিম খান লিটন, মৃত ওবায়দুল হকের ছেলে এহসানুল হক, মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. কামাল হোসেন, কালিকাপুর এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে বাহার মিয়া ও মো. মিঠুসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন।
এদিকে, একই ঘটনায় পাল্টা হামলার অভিযোগ তুলে সুলতান আহমেদসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছিলেন এনামুল হক সবুজ। সেই মামলার প্রেক্ষিতে আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, মারামারির এই মামলায় আদালত জামিন না মঞ্জুর করায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আইনের ৩২৬ ও ৩২৭ ধারার মামলাগুলো সাধারণত জামিন অযোগ্য। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ ছিল বলে জানা গেছে।
বাকশিমুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জসীম উদ্দীন জানান, রেলের সরকারি মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে মূলত দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে। কারাগারে থাকায় অভিযুক্ত এনামুল হক সবুজের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

















