দেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেন ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান সিলেট টেস্টে তার এই অর্জনের মুহূর্তটি ছিল ঐতিহাসিক। অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন ক্যারিবীয় ব্যাটার জশুয়া বিশপ। শট খেলার সময় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পা তুলে ফেললে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে লিটন দাস স্টাম্প ভেঙে দেন। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশি কোনো পেসারের বলে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট শিকারের এটিই প্রথম ঘটনা। ফলে হাসানের ফাইফারের সঙ্গে লিটনের স্টাম্পিংও ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন নজির হয়ে রইল। লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে ৮৪ রান খরচায় হাসান নিজের পঞ্চম উইকেটটি তুলে নেন।
২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর থেকেই হাসান নিজেকে দলের অন্যতম আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। মাত্র ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে তিনি পাঁচটি ভিন্ন দেশে পাঁচ উইকেট পাওয়ার বিরল কীর্তি গড়েছেন। রাওয়ালপিন্ডি, চেন্নাই, ডারউইন, আবুধাবি এবং সবশেষ সিলেট—এই পাঁচটি ভেন্যুতেই তিনি ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেস্টে পাঁচটি আলাদা দেশে ফাইফার নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার নাথান লায়নের পর দ্বিতীয় বোলার।
বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম সময়ে একাধিকবার ফাইফার নেওয়ার তালিকায় এখন একক আধিপত্য হাসানের। ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে তিনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তুলনায় সাবেক পেসার শাহাদাত হোসেন ৩৮ টেস্ট খেলে চারবার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছিলেন। এছাড়া নাহিদ রানা ১২ টেস্টে এবং রবিউল ইসলাম ৯ টেস্টে দুইবার করে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। মঞ্জুরুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেনও একবার করে পাঁচ উইকেট নেওয়ার স্বাদ পেয়েছেন।
হাসানের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের সূচনা হয় ২০২৪ সালের আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে। এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের বিপক্ষে, ২০২৬ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও তিনি পাঁচ উইকেট নেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে লড়াকু এই পেসার আবারও প্রমাণ করলেন দেশের মাটিতেও তিনি সমান কার্যকরী। ইনিংসের শেষ ভাগে আরও উইকেট পাওয়ার সুযোগ থাকলেও হাসানের এই ফাইফার ইতিমধ্যেই তাকে বাংলাদেশের পেস বোলিং ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

















