জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় চার দশক পর একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, এই অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো এই মঞ্চে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই দুই শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি এক বিরল কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি করেছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে প্রধানমন্ত্রী তার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রীকে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে কয়েকটি অনুষ্ঠান ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে না থাকা এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করার নীতিতে অটল থেকে তিনি সফরটি সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় এখন প্রধানমন্ত্রীর পুরো সফরটি নিউইয়র্ককেন্দ্রিক হচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও মূল মনোযোগ থাকছে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরেই।
সফরসূচীর এই পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর বহরও অনেক ছোট করা হয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ জনের নিচে রাখার চেষ্টা চলছে। অতীতে বিভিন্ন সময় জাতিসংঘের সফরে বড় বহর নিয়ে যাওয়ার নজির ছিল। ২০১৪ সালে ১৮০ জন এবং ২০১৯ সালে তা ২৯২ জনে পৌঁছেছিল। এমনকি ২০২৪ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গীর সংখ্যা সরকারি হিসেবে ৮০ জনের বেশি ছিল। সেই তুলনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সফরকে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে সাজানো হচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে প্রয়োজন ছাড়া বাড়তি লোক নেওয়ার পরিকল্পনা নেই সরকারের।
সফরকালীন কর্মযজ্ঞ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা ছাড়বেন। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি, যা এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফার্স্টলেডি জুবাইদা রহমান সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।
ভাষণের মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে হুমায়ুন কবির জানান, বিশ্বনেতাদের সামনে নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষার রূপরেখা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্ব পাবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করা হবে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের সাইডলাইনে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের জন্য এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর ২১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো দেশ ছাড়ছেন জাতীয়তাবাদী সরকার প্রধান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সফরসূচি সংক্ষিপ্ত হওয়ায় এসব কর্মসূচি আপাতত বাদ পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৩ সেপ্টেম্বরের নৈশভোজেও থাকছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এতে আয়োজক হিসেবে থাকবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা ৩০ এর কম হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ লক্ষ্যেই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

















