দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পার হওয়ার পর নাটোরের চাঞ্চল্যকর সোহেল রানা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (চতুর্থ আদালত) বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন বুধবার বিকেলে এই রায় প্রদান করেন। রায়ে মূল অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন মন্টু (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। জরিমানা প্রদানে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এই জরিমানার অর্থের মধ্যে ৪ লাখ টাকা নিহত কিশোরের পরিবারকে প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বাকি ১ লাখ টাকা জমা হবে সরকারি কোষাগারে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে লালপুরের পুরাতন ঈশ্বরদী মাঠে নিজের জমিতে কলাগাছ রোপণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কিশোর সোহেল রানা ও তার ভাই সোহাগ। অভিযুক্তরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এ সময় মোজাফফর হোসেন মন্টুর লাঠির আঘাতে সোহেল গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা মুকুল হোসেন ঘটনার পরদিনই অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর জানান, আসামির উপস্থিতিতেই রায়টি প্রদান করা হয়েছে। এই মামলার অপর দুই অভিযুক্ত আসামি—রেজাউল করিম ও মুক্তার আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালত কর্তৃক ঘোষিত রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বলে জানানো হয়। খালাস পাওয়া অপর দুই আসামি হলেন—একই এলাকার মৃত শামসের প্রামাণিকের ছেলে রেজাউল করিম ও মৃত মোকছেদ আলী প্রামাণিকের ছেলে মুক্তার আলী।













