চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংস্থার উপসহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ এই মামলাটি করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত হাসপাতালটিকে বেতন-ভাতা, এমএসআর, পণ্য ও সেবা এবং দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি এ অনুদানের টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের সরকারি অনুদানগুলো নিয়ম অনুযায়ী সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির আন্দরকিল্লা শাখায় রক্ষিত অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা ছিল।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ২০২০ সালের ৬ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত মোট ১২টি চেকের মাধ্যমে দুই কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা কৌশলে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ব্যক্তিগত চলতি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ ব্যক্তিগত কাজে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া, অর্থ স্থানান্তরের জন্য ব্যবহৃত চেকগুলোতে তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ মো. শাহাব উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাহাঙ্গীর চৌধুরী স্বাক্ষর করতেন। অথচ ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল কোষাধ্যক্ষ মো. শাহাব উদ্দিন মারা যাওয়ার পরও তার স্বাক্ষর জাল করে চেক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছিল।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে সরকারি অনুদান ও বিভিন্ন প্রকল্পের দুই কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার পর কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক জানিয়েছে, চলমান তদন্ত প্রক্রিয়ায় অন্য কারো সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

















