বগুড়ায় রাকিবুল হাসান বকুল ওরফে ‘ন্যাংড়া বকুল’ নামের ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। বুধবার দুপুর ৩টার দিকে শহরের ঝোপগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার ও শাশুড়ি বুলিকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ বছর আগে পারভীন আক্তারের সঙ্গে বকুলের বিয়ে হয়েছিল। দাম্পত্য কলহের জেরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বকুলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন পারভীন। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত বকুলের বিরুদ্ধে দুটি অস্ত্র মামলা, দুটি মাদক মামলা এবং নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগে মোট পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর জেরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বকুলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন পারভীন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে কুপিয়ে জখম করার পর গলা কেটে হত্যা করেন। এদিকে আসামি আটকের সময় রমজান আলী নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা চালান স্বজনেরা। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এসআরবি বগুড়ার স্কোয়াড কমান্ডার ও সহকারী পুলিশ সুপার নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। আটক দুজনকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।















