ডনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে মনোনীত করেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর এটি ট্রাম্পের প্রশাসনে বড় কোনো রদবদলের ঘটনা। শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে ট্রাম্প জানান, মিলার তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে শুরু থেকেই সাথে রয়েছেন এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন মানুষ। আগামী সোমবার থেকে মিলার তার নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। পূর্ববর্তী চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস ব্যক্তিগত কারণ এবং স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার কারণে পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
সিএনএন ও বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের আধিপত্য হারানোর পর ট্রাম্প তার দলের কৌশল নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন, যার জেরে ওয়াইলসের বিদায় ঘটে। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এই পরিবর্তনের সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ওয়াইলস পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবেন। ওয়াইলস প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ হিসেবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের যে কোনো সহযোগীর চেয়ে বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার মূলত ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইস কর্মকর্তাদের জন্য প্রতিদিন তিন হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তারের নজিরবিহীন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। তার স্ত্রী কেটি মিলার এই নিয়োগের ক্ষেত্রে পর্দার আড়ালে ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, মিলারের নিয়োগের মাধ্যমে ট্রাম্প তার পুরনো কঠোর অবস্থানে ফিরে এসেছেন।
মিলার এর আগে মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত অ্যালেক্স প্রেটিকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী ও গুপ্তঘাতক বলে অভিহিত করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। এছাড়া ভেনিজুয়েলা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানে তার বিতর্কিত ভূমিকার বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাউস লিডার হেকিম জেফরিস তাকে চরমপন্থী ও বিপজ্জনক বহিরাগত-বিদ্বেষী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই নিয়োগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, মিলার লড়াই থেকে কখনো পিছপা হন না।
রিপাবলিকান দলেও মিলারকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সেনেটর থম টিলিস তাকে অযোগ্য বললেও মাইক লি তাকে একজন রক্ষণশীল যোদ্ধা হিসেবে প্রশংসা করেছেন। এদিকে উপ-রাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সের অবৈধ শ্রমিকবিরোধী নীতির চেয়েও মিলারের কঠোর অবস্থান ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। এছাড়া অতীতে ডেমোক্রেট সেনেটর জেমস টালারিকোকে ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থী বলে কটূক্তি করার কারণেও মিলার আলোচনায় ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, মিলারের এই নিয়োগের ফলে আসন্ন নতুন কংগ্রেসে নীতি নির্ধারণ ও আইন পাসের ক্ষেত্রে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

















