মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলে মনে করে তেহরান। এ অঞ্চলের দেশগুলোর নেতৃত্বে একটি নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে এ বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ চলছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি স্পষ্ট করেন যে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই। ওমান ও কাতারের ইতিবাচক কূটনৈতিক ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। নতুন সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।
এর আগে গত সোমবার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানিয়েছিলেন, সম্প্রতি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। এ সময় নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার দেশ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে একমত হয়েছে। উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তাদের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে পাল্টা জবাবের আওতায় আনা হবে। সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের সময় নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যেখানে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থাকবে না।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামুদ্রিক অবরোধ বন্ধ, তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। আরাঘচি জানান, নিউ ইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে কোনো সমঝোতা এখনো হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আলাদা বিষয়। এরপরের দিন প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। ইরান আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও, কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন হলে সর্বাত্মক লড়াইয়ে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

















