নারী ফুটবলের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার পথ হাঁটছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৭ সালে ব্রাজিলে বসতে যাওয়া নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানি দ্বিগুণ করার প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আগামী আসরে সামগ্রিক প্রাইজমানির অর্থ বেড়ে ২২ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। তবে এই বড় অংকের তহবিল বৃদ্ধির পরও পুরুষ বিশ্বকাপের তুলনায় আর্থিক আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের তফাৎ থেকে যাচ্ছে। তবে এই অঙ্কও পুরুষদের বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক কম। শুধু প্রাইজমানি নয়, প্রস্তুতির অর্থও বাড়াচ্ছে ফিফা।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপে পুরস্কার বাবদ দেওয়া হয়েছিল ১১ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৯ আসরে এই অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ কোটি ডলার। ফলে টানা তিন আসর ধরে বিশ্বমঞ্চের পুরস্কার তহবিল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে। যদিও সম্ভাব্য এই ২২ কোটি ডলারের প্রস্তাব এখনো পুরোপুরি রূপ নেয়নি; আগামী ডিসেম্বরে ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভায় আর্থিক বণ্টনের বিষিয়টি তোলা হবে এবং সেখানেই এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তিন আসরের ব্যবধানে পুরস্কার তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
পুরস্কার অর্থ বাড়লেও পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপের প্রাইজমানির ব্যবধান স্পষ্ট। ২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপে দলগুলোর প্রাইজমানি বাবদ ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার নির্ধারণ করা রয়েছে, যার তুলনায় ২০২৭ সালের নারী টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য প্রাইজমানি কেবল তিন ভাগের এক ভাগ। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৬ পুরুষ এবং ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে সমান অর্থ পুরষ্কার হিসেবে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তা এখনো সমান হচ্ছে না।
টুর্নামেন্টের মূল প্রাইজমানির পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রস্তুতি ব্যয় এবং খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিলেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চূড়ান্ত পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩২টি দলের প্রতিটি প্রস্তুতি মূলক কাজের জন্য ২৫ লাখ ডলার করে পাবে, যা দিতে ফিফাকে মোট ব্যয় করতে হবে ৮ কোটি ডলার। আগের আসরে এ খাতে সংস্থাটি খরচ করেছিল ৩ কোটি ৭ লাখ ডলার। একইসঙ্গে খেলোয়াড়দের ন্যূনতম আয় ৩০ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার ডলার এবং ক্লাব বেনিফিট ফান্ডের তহবিল ১ কোটি ১৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ২৬ লাখ ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। ফিফার প্রত্যাশা, ব্রাজিলের আসরটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে লাভজনক নারী বিশ্বকাপ।
















