ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইয়েমেন থেকে বারবার হামলার জেরে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম গত কয়েক দিনে বারবার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে। আকাশপথে সংঘাতের এই ঝুঁকির ফলে সৌদিয়ার মতো রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইনসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের রিয়াদগামী ও বহির্গামী বহু ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
বিমান চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত রিয়াদ থেকে নির্ধারিত ৩৭৮টি বহির্গামী ফ্লাইটের মধ্যে ১৬৯টিই বাতিল হয়েছে বা উড্ডয়ন করেনি। একই সময়ে রিয়াদে আসা নির্ধারিত ৩৬৯টি আগমন ফ্লাইটের মধ্যে ১২৪টি বাতিল হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সৌদিয়ার নিজস্ব ফ্লাইটগুলো, যাদের প্রায় ৭০ শতাংশ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সংস্থাটির রিয়াদ থেকে নির্ধারিত ১৪০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৯৭টি এবং রিয়াদগামী ১৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৮৭টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়নি। এছাড়া ফ্লাইনাসের ৯১টি বহির্গামী ফ্লাইটের মধ্যে ৩০টি, ফ্লাইএডিলের ৫৪টির মধ্যে ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১৫টির মধ্যে দুটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। টার্কিশ এয়ারলাইনসের রিয়াদ থেকে নির্ধারিত চারটি ফ্লাইটই বাতিল হয়েছে, সেই সঙ্গে রিয়াদে আসা তাদের চারটি ফ্লাইটও বাতিল করতে হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের আটটি ফ্লাইটের মধ্যে তিনটি, ইজিপ্টএয়ারের চারটির মধ্যে দুটি এবং ওমান এয়ারের তিনটি ফ্লাইটের মধ্যে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দুটি, এয়ার ইন্ডিয়ার একটি, এবং শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনস, ফিলিপাইন এয়ারলাইনস, ইয়েমেনিয়া ও এজেটের একটি করে নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। গালফ এয়ার ও ফ্লাইদুবাইয়ের আগমনী ফ্লাইটগুলোতেও একই ধরণের বিপর্যয় দেখা গেছে।
চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়েছে। ফিলিপাইন এয়ারলাইনস অন্তত ১১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। সিঙ্গাপুর এয়ার রিয়াদে নতুন ফ্লাইট চালুর সূচি পিছিয়ে ২৮ মার্চ নির্ধারণ করেছে। এছাড়া ক্যাথে প্যাসিফিক গত সপ্তাহে দুবাই ও রিয়াদের ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা বর্ধিত করে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি মার্কিন ও ইউরোপীয় এয়ারলাইনও তাদের ফ্লাইট কার্যক্রম সীমিত রেখেছে।

















