ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক লড়াইয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে সেনাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন। মুফতির ভাষ্যমতে, জাতীয় ভূখণ্ড রক্ষা এবং হুথিদের পরাজিত করার এ সংগ্রাম কেবল সামরিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ধর্মীয় কর্তব্যও বটে। বিবৃতিতে তিনি সেনাদের তাদের শাসক এবং সামরিক কমান্ডারদের সকল নির্দেশ যথাযথভাবে মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই মহান রাষ্ট্রকে রক্ষা করা।
ধর্মীয় প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ও দেশের সীমানা রক্ষায় যেকোনো ধরনের আত্মত্যাগ করা শ্রেষ্ঠ পুণ্যের কাজ। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি প্রতিরক্ষা ও লড়াইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি হুথিদের পূর্ণ পরাজয় এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। একই সঙ্গে তিনি হুথি গোষ্ঠী এবং তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এবং এর ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জায়গাতেও হাত দেওয়ার চেষ্টাকারীকে শাস্তি দেওয়া—এসবই হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ দায়িত্ব ও পুণ্যের কাজ; যার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে জীবন ও প্রাণ উৎসর্গ করা যেতে পারে।’। এতে আরো বলা হয়, ‘আমরা সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনাদের সবাইকে তার সহায়তা প্রদান করেন এবং আমাদের দেশ ও প্রিয় ইয়েমেনকে সব ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা সৌদি বিমান হামলায় সংঘাতের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গ্র্যান্ড মুফতির এই বক্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বার্তার মাধ্যমে সৌদি কর্তৃপক্ষ সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বড় করার ইঙ্গিত দিয়ে থাকতে পারে, যা অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আলোচনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

















