দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক আরও চারটি নতুন ডিজিটাল ব্যাংককে নীতিগত অনুমোদন প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক পর্ষদ সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গৃহিত হয়। নবগঠিত এই তালিকায় স্থান পাওয়া চার প্রতিষ্ঠান হলো বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক এবং বুস্ট।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানকেই আর একবারে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়া হবে না। নীতিগত অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোকে প্রথমে টানা ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে নিজেদের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করতে হবে। এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সফল হওয়ার পরই কেবল তাদের চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হলে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
সভায় আলোচিত অন্য এজেন্ডার মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রাথমিক সম্মতিপত্র বা এলওআই পাওয়া নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই দুটি প্রতিষ্ঠানকেও পরবর্তীতে কার্যক্রমে আসার সুযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঠিক আগে নগদ ডিজিটাল ব্যাংককে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল, যদিও ২০২৩ সালের আগস্টে এদের প্রাথমিক অনুমোদন মিলেছিল।
তবে সরকার পরিবর্তনের পর বিদেশে ভুঁইফোড় কোম্পানি খুলে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এর জেরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স স্থগিত করা হয় এবং কড়ির চূড়ান্ত লাইসেন্স আটকে যায়। নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত পাঁচটি বিদেশি কোম্পানি যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের ফিনক্লুশন ভেঞ্চারস পিটিই এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্লু হেভেন ভেঞ্চারস, অসিরিস ক্যাপিটাল পার্টনারস, জেন ফিনটেক ও ট্রুপে টেকনোলজিস অন্যতম।
বিদেশি এই বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আসল পরিচয় ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরে চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ঠিকানা, মালিকানা কাঠামো, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বর্তমান মালিকানার বিবরণ এবং গত তিন বছরের কর-পরবর্তী নিট মুনাফাসহ বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির মূল উদ্যোক্তা ছিল প্রযুক্তি খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠান টেকনোহেভেন, যার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাবিবুল্লাহ নেয়ামুল করিম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত কয়েকটি কোম্পানির সুনির্দিষ্ট তথ্য সময়মতো সরবরাহ করতে না পারায় এই ব্যাংকটির চূড়ান্ত অনুমোদন ঝুলে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, দেশে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। ওই বছরের ২০ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আগ্রহী সব প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন চেয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সে সময় মোট ৫২টি আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্য থেকেই যাচাই-বাছাই শেষে নগদ ও কড়িকে প্রাথমিক সম্মতি দেয়া হয়েছিল।

















