রেকর্ড তাপপ্রবাহ ও বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলো আশঙ্কাজনক হারে সংকুচিত হচ্ছে। সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্ক (গ্ল্যামোস) এবং সুইস একাডেমি অব সায়েন্সেসের ক্রায়োস্ফিয়ার অবজারভেশন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরই হিমবাহের ৫ শতাংশের বেশি বরফ গলে হারিয়ে গেছে। গবেষকরা একে নতুন এক ভয়াবহ বাস্তবতা হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে চোখের সামনে হিমবাহগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে।
গ্ল্যামোসের পরিচালক ম্যাথিয়াস হাস জানান, শীতকালে প্রয়োজনের তুলনায় কম তুষারপাত এবং গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ হিমবাহের এই দ্রুত বিনাশের মূল কারণ। গত পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশটির হিমবাহগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ বরফ গলে গেছে। যদিও ২০২২ সালের নজিরবিহীন বরফ গলার ঘটনার চেয়ে এবারের হার কিছুটা কম, তবুও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওই বছর উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা ধূলিকণা বরফের ওপর জমা হওয়ায় গলন প্রক্রিয়া তীব্রতর হয়েছিল। ইউরোপের বরফে ঢাকা এলাকাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে ২০২২ সালের মতো রেকর্ড হারে এখনো বরফ গলছে না বলে জানান তিনি। বিশ্বে উদ্বেগজনক গতিতে গলছে হিমবাহ, কী হতে পারে।
তালিকায় শীর্ষে থাকা সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম হিমবাহ ‘আলেৎশ’ এ বছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ‘গ্লেসিয়ার দ্য সঁফ্লেরঁ’ হিমবাহের পুরুত্ব ৪ মিটারের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা কয়েক বছর আগেও ছিল অকল্পনীয়। গবেষকদের তথ্যমতে, শুধু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি গলে গেছে। উল্লেখ্য, এই পরিমাণ পানি দেশটির সব পরিবারের এক বছরের মোট চাহিদার চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি।
গ্রীষ্মকালীন পানির চাহিদা মেটাতে হিমবাহের বরফ গলন একসময় সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও, এখন এর আয়তন কমে আসায় সেই সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ম্যাথিয়াস হাস আক্ষেপ করে বলেন, পাহাড়ের যেসব এলাকায় আগে চিরহিমায়িত বরফ ও তুষার ছিল, এখন সেখানে শুধুই পাথুরে শূন্যতা দৃশ্যমান। হিমবাহ গলার এই দ্রুতগতি পরিবেশগত ভারসাম্য ও ভবিষ্যতে পানি সরবরাহের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানির সংকট কিছুটা কমাতে এটি ভূমিকা রাখে।

















