ঢাকার দোহারের বিলাশপুর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে মা-বাবা হারানো সেই পাঁচ বোনের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনলাইনে ‘এক মাসের ব্যবধানে মা–বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অভাবের সংসারে পাঁচ মেয়ের কী হবে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। এরপরই তিনি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন একটি প্রতিনিধিদলকে পরিবারটির কাছে পাঠান। আজ শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। সংগঠনের সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি রাধানগর গ্রামে ওই প্রয়াত কৃষক দম্পতির বাড়িতে পৌঁছে অসহায় এতিম পাঁচ বোনের খোঁজখবর নেয়। তাদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
এই কৃষক পরিবারটির করুণ পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় মূলত সংসারের তীব্র অভাব-অনটনের কারণে। কৃষক আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী ফরিদা বেগম অভাবের চাপে আত্মহননের পথ বেছে নেন। স্ত্রীর মৃত্যুর ঠিক এক মাস পর ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে তালাবদ্ধ বসতঘর থেকে স্বামী আবুল কালাম আজাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই দম্পতি রেখে গেছেন পাঁচ মেয়েকে, যাদের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়ে গেলেও মা-বাবাকে হারিয়ে বাকি চারজন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল।
সাহায্য প্রদানের সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা নিয়ে তারা এসেছেন। এ ধরনের বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত আয়োজনে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান এবং বুয়েট শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

















