সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছরের দিবসটি ১৯৬৬ সালের আইএলও-ইউনেস্কো শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত সুপারিশমালার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। অথচ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক নিয়োগের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণের কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেই। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলেও, বিপুলসংখ্যক শিক্ষক এখনো মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন। সরকারি বেতন-ভাতাভুক্ত প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষক বর্তমানে কোনো ধরনের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের দিবসটি ১৯৬৬ সালের আইএলও-ইউনেস্কো শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত সুপারিশমালার ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সে হিসেবে প্রায় ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণের আওতার বাইরে। লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এদিকে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন মাদরাসা শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশের প্রশিক্ষণ রয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্যমতে, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশের কোনো প্রশিক্ষণই নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষকতায় প্রবেশের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক না থাকায় শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রয়োগ নিয়ে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, নিয়োগের আগেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে প্রার্থীরা নিজেরাই তা গ্রহণে আগ্রহী হবেন। এছাড়া প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে ঠিকমতো প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সরকারের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এতে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষণদক্ষতা প্রয়োগে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে বর্তমানে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণের বিকল্প নয়। নিয়োগ-পরবর্তী প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভরতা না কমিয়ে নিয়োগের পূর্বশর্ত হিসেবে পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার দাবি দীর্ঘদিনের, যাতে শিক্ষার মান উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

















