শনিবার ৩ অক্টোবর নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ আয়োজিত ‘পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জনপ্রশাসনকে নতুন রূপরেখায় ঢেলে সাজানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে যে, তাদের মূল দায়িত্ব নাগরিকদের সেবা দেওয়া, শাসন চালানো নয়। জনপ্রশাসনকে এখন থেকে পুরনো ধ্যানধারণা পরিহার করে আরও উন্মুক্ত ও নিরপেক্ষ হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
উপাচার্য বিগত সরকারের সময়ের সমালোচনা করে বলেন, সে সময় জনপ্রশাসনকে একটি অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের সাথে প্রশাসনের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থান এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের তরুণরা কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেনি, বরং বৈষম্যহীন ও আইনের শাসনভিত্তিক একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়নের বিষয়ে অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও স্বতন্ত্র অবস্থানে নিতে হলে শিক্ষক ও গবেষকদের উচ্চমানের গবেষণা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সরকারি তহবিলের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মিত কার্যক্রমের পর গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল গঠন করা এখন জরুরি। গবেষণার গতি বাড়াতে তিনি দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদেরও গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
সম্মেলনে উপাচার্য আরও আশা প্রকাশ করেন যে, রাষ্ট্রকাঠামো উন্নয়নে ও সংস্কারের রূপরেখা তৈরিতে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপিত নীতি সংস্কার, নাগরিক অধিকার ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণাপত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একটি গণআন্দোলন বিদ্যমান অন্যায় ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হলেও, নতুন ও উন্নত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিয়মিত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও নিবিড় একাডেমিক গবেষণার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্বের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ড. আকা ফিরোজ আহমদ। পুরো অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া ও মো. রবিউল ইসলাম।

















