লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে আয়োজিত ‘#ডিসইনফো২০২৬’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ভুয়া তথ্য ও অনলাইন অপপ্রচার মোকাবিলার লক্ষ্যে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা ও আয়োজক দেশ লিথুয়ানিয়া। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনটি ৭ ও ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সম্মেলনটির মূল ওয়েবসাইট থেকে লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস)-এর লোগো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি ভেন্যুতে থাকা সম্মেলনের বিভিন্ন উপকরণে এসব প্রতিষ্ঠানের লোগোর ওপর সাদা স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা শেষ মুহূর্তে সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্ট করে। আয়োজক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘ইইউ ডিসইনফো ল্যাব’-এর তথ্যমতে, এই সম্মেলনে গবেষক, সাংবাদিক ও নীতিনির্ধারকসহ প্রায় ৬৫০ জনের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল।
এই কূটনৈতিক অস্বস্তির পেছনে রয়েছে সম্মেলনের একটি বিতর্কিত প্যানেল আলোচনার শিরোনাম—‘ইউএসএ অ্যাজ আ এফআইএমআই থ্রেট: অ্যাকনলেজ, অ্যাডাপ্ট, পুশ ব্যাক’। এখানে এফআইএমআই বলতে বিদেশি তথ্য হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারকে বোঝানো হয়েছে। তিন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সমর্থন তুলে নিতে বা অংশগ্রহণ কমাতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, বন্ধুরাষ্ট্রকে ‘ভুয়া তথ্যের হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করার বিষয়টি যৌথ প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে।
সম্মেলনের কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের তথ্য-নিরাপত্তার জন্য একটি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে পর্যালোচনার বিষয়টি স্থান পেয়েছিল। এছাড়া উদ্বোধনী অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক কিম্বারলি প্রস্টের বক্তব্য রাখার কথা ছিল। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর কথিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত অনুমোদনের জেরে বিচারক প্রস্ট ও আরও কয়েকজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটেই লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মসূচির কিছু বিষয় তাদের সরকারি অবস্থানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। কানাডার পক্ষ থেকেও জানানো হয়, আলোচনার বিষয়বস্তু পরিবর্তনের পর তারা অংশ নেওয়ার ধরন পুনর্বিবেচনা করেছে।
তবে এই বিতর্ক সত্ত্বেও ফ্রান্স এখনও সম্মেলনের প্রধান সমর্থক হিসেবে তালিকায় রয়ে গেছে। একজন ফরাসি কূটনীতিক স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার সম্মেলনের বিষয়বস্তু নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা পালন করেনি, তবে অপতথ্যবিরোধী নাগরিক উদ্যোগকে তারা সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মিত্রতার মাঝে তথ্যযুদ্ধের নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তার সংজ্ঞাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের মতপার্থক্য।

















