রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় এক ব্যক্তির আকস্মিক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়িয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে দৌলতদিয়া আনজুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি ইল হাসান দাখিল মাদ্রাসার রান্নাঘরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত সোনাবান নামের এক নারী শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে একটি মাদ্রাসার রান্নাঘরে হামলায় মাদ্রাসার বাবুর্চি ফজের আলী (৭০) নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন জুমার নামাজের পর দুপুর আড়াইটার দিকে মাদ্রাসার হোস্টেলের বাবুর্চি ফজের আলী শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার পরিবেশন করছিলেন। ওই সময় নাটোর জেলা সদরের ডালা দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সেন্টু সেখানে এসে খাবার চান। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ খাবার আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত খাবার নেই বলে জানান বাবুর্চি ফজের আলী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সেন্টু রান্নার কাঠ দিয়ে ফজের আলীর মাথার পেছনে উপর্যুপরি আঘাত করেন, যার ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ সময় বাবুর্চি ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব সোনাবান। ক্ষিপ্ত হামলাকারী তাঁকেও এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজের আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত সোনাবানকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে এবং সোনাবান দৌলতদিয়া সিদ্দিক কাজিরপাড়ার সাইম উদ্দিন শেখের স্ত্রী। ঘটনার পর খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্ত সেন্টুকে আটক করে। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, আটক ব্যক্তির মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য পুলিশি পাহারায় তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হামলাকারী হিসেবে সেন্টু (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

















