তৈরি পোশাকশিল্পের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে পোশাক খাতে উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
আজ রাতে সচিবালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের কল্যাণে সব সময় আন্তরিক। তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন করার কথা রয়েছে। যদিও হাতে এখনো ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় ছিল, তবুও মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকার দ্রুত এই বোর্ড গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পরপরই সকালে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এখন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের সম্মানজনক জীবনযাপন ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি নির্ধারণ করবেন। আলোচনার এই পথ খোলা থাকায় রাস্তায় নেমে সহিংস আন্দোলন বা ভাঙচুরের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
সহিংসতা ও উসকানির বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সম্প্রতি পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো যেসব ঘটনা ঘটেছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের কঠোর হাতে দমন করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণে জড়িত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী আরও জানান, নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন জোগাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত করা এবং শিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। তবে এই অপতৎপরতা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অপতৎপরতা সরকার কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।
বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত চালু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারণে সাময়িক বন্ধ থাকলেও পারস্পরিক সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে তা স্বাভাবিক করতে হবে। রপ্তানি পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের তৈরি পোশাক খাতের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের স্বার্থে এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে মালিক ও শ্রমিকদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
উল্লেখ্য, সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

















