বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক’ ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। ‘গল্পের পথচলা অব্যাহত’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে সম্প্রতি দোহায় অবস্থিত নিজস্ব সদর দপ্তরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে আমীর নেটওয়ার্কটির তিন দশকের দীর্ঘ পথচলা ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নিয়ে আয়োজিত বিশেষ ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এছাড়া গণমাধ্যমে আল জাজিরার ভূমিকা এবং এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তিন দশকের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের ইতিহাস।
অনুষ্ঠানে আমীরের সঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী, নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন সামের আল-থানী এবং ডিরেক্টর জেনারেল শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল-থানীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমীর অনুষ্ঠানের শেষে আল জাজিরার নতুন হাই-টেক স্টুডিও ও নিউজ রুম ঘুরে দেখেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অত্যাধুনিক সম্প্রচার প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করছে, তা তাঁকে বিস্তারিত জানানো হয়। এ সময় সম্প্রচার ও টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনায় ব্যবহৃত আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্বমানের প্রযুক্তি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।
১৯৯৬ সালে মাত্র ৬ ঘণ্টার সম্প্রচার দিয়ে যাত্রা শুরু করা আল জাজিরা বর্তমানে একটি বিশ্ব পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি পরিবারে চ্যানেলটি নিয়মিত দেখা হয়। এর ৭০টিরও বেশি ব্যুরোতে ৯৫টি দেশের প্রায় ৩,০০০ সংবাদকর্মী নিরলসভাবে কাজ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে। গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি (৪৩০ মিলিয়ন) পরিবারে পৌঁছে যায় আল জাজিরা। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখ (৫২ মিলিয়ন) অনুসারী রয়েছে।
কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সাংবাদিকতার সাহসিকতার জন্য আল জাজিরা বিশ্বে সমাদৃত। ২০০১ সালে কাবুলে এবং ২০০৩ সালে বাগদাদে কার্যালয়ে হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও তারা সংবাদ পরিবেশন থামায়নি। এছাড়া ২০১১ সালে ‘আরব বসন্ত’ কভারেজের জন্য চ্যানেলটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পীবডি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত শিরিন আবু আকলেহ এবং আনাস আল-শরীফসহ ২৪ জনেরও বেশি সংবাদকর্মী শহীদ হয়েছেন। বিপ্লব ও সম্মাননা: ২০০১ সালে কাবুল ও ২০০৩ সালে বাগদাদে আল জাজিরার কার্যালয়ে হামলা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাহসী সাংবাদিকতা থামায়নি। যাদের মধ্যে অন্যতম ২০২২ সালে জেনিনে নিহত শিরিন আবু আকলেহ এবং ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আনাস আল-শরীফ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন ডিজিটাল চ্যানেল ‘আল জাজিরা নাও’ এবং ৩০টিরও বেশি নতুন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে বিশ্বজুড়ে তথ্যসেবা প্রদানে আল জাজিরা তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে।

















