৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বুশরা আল-তাওয়িলকে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেরশেবার ওহালেই ওজ কারাগারের একটি বিচ্ছিন্ন সেলে টানা ৪৬ দিন ধরে একাকী বন্দি করে রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। হাইফার দামুন কারাগার ও মধ্য ইসরাইলের নেভে তিরজা কারাগার হয়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করার পর বর্তমানে এই নির্জন সেলে রাখা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি, আদ্দামির প্রিজনার সাপোর্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশন এবং পিএলওর ডিটেইনিস অ্যান্ড এক্স-ডিটেইনিস অ্যাফেয়ার্স কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাকে বারবার স্থানান্তরের কারণে আইনজীবীরাও তার সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করতে পারছেন না। সর্বশেষ বুধবারও আইনজীবীকে জানানো হয় যে আল-তাওয়িলকে পুনরায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে তাদের নির্ধারিত সাক্ষাৎ বাতিল হয়ে যায়। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই প্রশাসনিক আটকাদেশের আওতায় তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আল-তাওয়িলের এই দীর্ঘমেয়াদি একাকী বন্দিত্ব জাতিসংঘের ‘নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস’ বা বন্দিদের আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। এই আন্তর্জাতিক বিধিতে ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে কাউকে একাকী বন্দি রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের বিচ্ছিন্নতা বন্দিদের মারাত্মক মানসিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলে এবং আইনি লড়াইয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। আল-তাওয়িল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনিক আটকাদেশের অধীনে থাকা সবচেয়ে পরিচিত ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের একজন। এছাড়া তার বাবা জামাল আল-তাওয়িলও একজন ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক বন্দি হিসেবে ইসরাইলি কারাগারে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন। আল-তাওয়িলের ৪৬ দিনের বন্দিত্ব সেই সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এতে বন্দিরা তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ সম্পর্কে জানার এবং তা আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন বলে তারা দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের, বিশেষ করে নারীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রবণতা বাড়ছে।
সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই পরিস্থিতির অবসানে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিসহ বিশ্বের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি জোরালো হস্তক্ষেপ ও আল-তাওয়িলের মুক্তির দাবি জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে ইসরাইলি কারাগারগুলোতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৯০ জন নারী এবং ৩৫০-এর বেশি শিশু রয়েছে। মিডল ইস্ট মনিটর ও আনাদোলু এজেন্সির তথ্যের ভিত্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্রটি উঠে এসেছে।

















