যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, গ্রিনল্যান্ডে ব্যাপক পরিসরে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বুধবার এক বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করলেও, প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা সময়রেখা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। ট্রাম্পের দাবি, খনিজ বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের ভূগর্ভে যে পরিমাণ সহজে উত্তোলনযোগ্য তেলের মজুত রয়েছে, তা বিশ্বের প্রায় যেকোনো স্থানের তুলনায় অনেক বেশি। এই বিশাল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা এবং ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে দ্বীপটি দীর্ঘ সময় ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
নিরাপত্তা কৌশল ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
খনিজ সম্পদের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থানকে মার্কিন নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছেন ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভবিষ্যতে যেকোনো ধরণের সামরিক হামলা গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই হুমকি মোকাবিলায় তার প্রশাসন সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
- ভবিষ্যৎ হামলার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করবে।
- ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, সেখানে এমন সব অস্ত্র মোতায়েন করা হবে, যার সক্ষমতা সম্পর্কে এখনো অনেকেরই কোনো কল্পনা নেই।
- সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডে নতুন দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও চলমান রয়েছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের ইস্যু নিয়ে অতীতে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। সেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে তিন পক্ষ একটি বিশেষ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ভূমিকা আরও সুসংহত করার পথ প্রশস্ত হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়টিকেও বিশেষভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এই দ্বীপটি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

















