গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসআরবি-১১-এর একটি বিশেষ দল বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৪ বছর বয়সী আবু মোকারমকে আটক করে। পরে সিদ্ধিরগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১। এর আগে বুধবার রাত আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-১১।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৯ জুলাই থেকে আসামি আবু মোকারম ওই হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে বন্দী ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর বরকল গ্রামে এবং তার বাবার নাম আবু তালেব। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আপন বোনের চাচি শাশুড়িকে হত্যার দায়ে তার বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ কার্যকর ছিল। এসআরবি আরো জানায়, পারিবারিক শত্রুতার জেরে আসামি আবু মোকারম ও অন্যান্য সহযোগীরা মিলে তার বোনের চাচি শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ধানখেতে ফেলে রেখেছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৫ আগস্ট দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। এর পরদিন ৬ আগস্ট সকালে কাশিমপুর কারাগারের বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা ও অগ্নিসংযোগে লিপ্ত হয়। সেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বন্দীরা কারারক্ষীদের জিম্মি করে এবং বৈদ্যুতিক পিলারের রড ভেঙে মই তৈরি করে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়। পলাতক ব্যক্তিদের মধ্যে মোকারমও ছিলেন।
কারাগার থেকে পলায়নের এই ঘটনায় জেল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিল। পলাতক অবস্থায় তাকে খুঁজে বের করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নজরদারি বজায় রাখে এবং বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়।

















