ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এ নির্দেশ দেন।
পরীমাণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, এলার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমণি আজ আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে পরবর্তী সুবিধাজনক দিনে শুনানির আবেদন জানিয়ে সময়ের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই দিনে মামলার বাদী উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক এ সিদ্ধান্ত দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, পরীমনির পক্ষের আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সময়ের আবেদনে উল্লেখ করেন, এদিন মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ রয়েছে। পরিমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা সুরভী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমণি ও জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করেন আদালত। অন্যথায় আসামির অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।
২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ঢাকার আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী ক্লাবের বাইরে যাওয়ার সময় পরীমণি তাঁকে ডেকে এনে কুপ্রস্তাব ও ব্লু লেবেল অ্যালকোহল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। তিনি এতে অসম্মতি জানালে গালিগালাজের একপর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে সার্ভিসিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথা ও বুকে আঘাত পান এবং পরীমণি ও তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে মারধরসহ হুমকি প্রদান করেন। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। সুযোগ বুঝে তারা বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। বাদী ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত সোয়া ১টার দিকে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদী নাসির উদ্দিনকে ডাক দেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন। বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি বাদীকে গালমন্দ করেন।
অন্যদিকে, বোট ক্লাবের একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমণি নিজে বাদী হয়ে সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করে হয়রানির ভয় দেখান।

















