২০ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সিরাজগঞ্জ

চলনবিলের প্রাচীন স্থাপনা রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের দাবি

news24banglatv.com সিরাজগঞ্জ ডেস্ক
Follow us Facebook YouTube
সব খবর

সিরাজগঞ্জের চলনবিল অধ্যুষিত বারুহাস এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো অবহেলা এবং সংরক্ষণের অভাবে বিলীন হওয়ার পথে। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো তিন গম্বুজবিশিষ্ট দেল মাহমুদ চৌধুরী জামে মসজিদ এবং মোগল আমলের প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচশ বছরের পুরোনো বারুহাস ইমামবাড়ি আজ অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। স্থানীয়দের মতে, এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এ অঞ্চল পর্যটন ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এসে চলনবিলের এই প্রাচীন জনপদের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তবে এর সুনির্দিষ্ট নির্মাণকাল নিয়ে ঐতিহাসিক তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বারুহাসের পরিচয় কেবল পুরোনো এই মসজিদ ও ইমামবাড়িতে সীমাবদ্ধ নয়। চলনবিলের উর্বর ভূমি ও নদীপথের যোগাযোগ এই জনপদের বিকাশে ভূমিকা রাখে। এগুলো শুধু ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

বারুহাস গ্রামের পশ্চিমপাড়ার চৌধুরীপাড়ায় অবস্থিত ১৮৭৫ সালে নির্মিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদটি দীর্ঘ সময় ধরে অঞ্চলের ধর্মীয় ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের নিদর্শন বহন করছে। মোগল স্থাপত্যরীতি অনুসরণে নির্মিত এ মসজিদে রয়েছে চুন-সুরকির পুরু দেয়াল, পোড়ামাটির অলংকরণ, কাঠের তৈরি তিনটি দরজা এবং ছাদের ওপর আটটি পিলারের সমন্বয়ে তৈরি তিনটি বড় ও পাঁচটি ছোট মিনার। মসজিদের ভেতরের দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের অলংকরণ ও কারুকাজ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ইট-সুরকির গাঁথুনিতে জন্মেছে লতাপাতা ও গাছগাছালি।

মসজিদটির চার শতক জমির ওপর নির্মিত মূল ভবনের ভেতরে প্রতি সারিতে ২০ জন করে মোট ৬০ জন মুসল্লি একসঙ্গে সালাত আদায় করতে পারেন। বাইরের খোলা বারান্দায় রয়েছে আরও দুটি সারির ব্যবস্থা। দক্ষিণ পাশে চৌধুরী পরিবারের প্রাচীন বাসভবন, পারিবারিক কবরস্থান এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভদ্রাবতী নদী ও খালের নৈসর্গিক রূপ মসজিদটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম জানান, ১৮৭৫ সালে তাঁর পূর্বপুরুষ দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংস্কারের মাধ্যমে এ প্রাচীন নিদর্শনটি টিকিয়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নাছিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ খন্দকার বলেন, সরকারি আর্থিক সহযোগিতা পেলে ঐতিহ্যবাহী এই প্রার্থনালয়টির প্রয়োজনীয় সংস্কার করা সম্ভব হবে। ৩১ বছর ধরে এখানে দায়িত্বে থাকা ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন জানান, জুমার দিনে মসজিদটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় এবং প্রাচীন এই স্থানে ইমামতি করতে পেরে তিনি গর্বিত।

অন্যদিকে, সম্রাট জাহাঙ্গীরের সমসাময়িক কালের স্মৃতিবিজড়িত বারুহাস ইমামবাড়িটিও আজ বিলুপ্তির পথে। প্রচলিত জনশ্রুতি রয়েছে, ইয়েমেন থেকে আসা সুফি-সাধক হযরত শাহ ইমাম (রহ.) চলনবিলের এ এলাকায় এসে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলা পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করে থাকার ঘর, একটি পুকুর এবং করমুক্ত জমি বরাদ্দ দেন। এ স্থানটিকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে বারুহাস ইমামবাড়ি। শাহ ইমামের ইবাদত ও বসবাসের সুবিধার্থে কয়েকটি পাকা ঘর নির্মাণ এবং একটি পুকুর খননের ব্যবস্থা করেন সম্রাট।

একসময় এ চত্বরে মসজিদসহ একাধিক দৃষ্টিনন্দন ঘর থাকলেও এখন সেগুলোর অধিকাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইটের গাঁথুনি থেকে খসে পড়ছে আস্তর, আর অবশিষ্টাংশ ঢেকে গেছে লতাপাতা ও বনজ জঙ্গলে। এর ঐতিহাসিক কারুকাজ অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

ইমামবাড়ির সীমানায় থাকা কবর ও বড় পুকুরটি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম জানান, ইমামবাড়ির মূল স্থাপনাগুলোর প্রায় কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। সমাধির সামনের প্রায় সাড়ে আট বিঘা আয়তনের জলাশয়টিও প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। সরকারি জরিপ চালিয়ে জায়গা উদ্ধার ও স্থাপনা সংরক্ষণের জোর দাবি জানান তিনি।

ইমামবাড়ির সুরক্ষায় কোনো স্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক না থাকলেও নিকটস্থ বাসিন্দা মো. কাবুল সরকার ও রেজা (ফারুক) মেম্বারসহ এলাকার সার্বিক জনমত হলো, প্রাচীন এ স্থানটি স্মৃতি হিসেবে বাঁচিয়ে রাখা জরুরি। গ্রামটির নামকরণ নিয়ে প্রচলিত আছে যে, ‘বারু শেখ’ নামে পরিচিত নায়েব শেখ বাহারউদ্দিনের নাম থেকেই বারুহাস নামের উৎপত্তি। পাঁচশ বছর আগে ইয়েমেন থেকে আসা শেখ বংশের মানুষ নদীপথের সুবিধায় এখানে বসতি স্থাপন করেছিল। প্রতি বছর মেলা, জমিদারবাড়ি ও বেহুলার কূপ ঘিরেও এখানকার ঐতিহ্য উদযাপিত হয়। ইতিহাসের পাতায় বারুহাসের নাম হয়তো এখনো টিকে আছে, কিন্তু অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সেই ইতিহাসের দৃশ্যমান চিহ্ন। বর্তমানে এখানে নিয়মিত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন প্রাচীন স্থাপনাটি দেখতে। পূর্বপুরুষদের মতো তারাও এখানে নামাজ আদায় করছেন। স্থানীয়ভাবে ইমামবাড়ির দেখভালের কোনো লোক নেই, তবে আশেপাশের বাসিন্দা মো. কাবুল সরকার ও রেজা (ফারুক) মেম্বারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয়রা সবাই স্থাপনাটির স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি—প্রথমে ইমামবাড়ির জমি ও অবশিষ্ট কাঠামোর সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে। সরকারি জরিপের সাহায্যে সীমান্ত নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে এটি সংরক্ষণ করা দরকার। সেই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী দেল মাহমুদ চৌধুরী জামে মসজিদের মূল নকশা ঠিক রেখে সংস্কারকাজ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো আমাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও অতীত শিল্পবোধের প্রতীক। এগুলোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাচীন মসজিদ ও ইমামবাড়ির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব খতিয়ে দেখে এর মূল বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে সংস্কার করার আশ্বাস দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।

সব খবর
শিরোনাম :
আশুলিয়ায় ফের শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭০ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা এআই উদ্ভাবনে সক্ষম দেশে রূপান্তর প্রয়োজন: রাষ্ট্রপতি ধামইরহাটে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৮ কাতারে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ট্রাফিক আইন জারি পুলিশের: শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতার মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে চীনের সাথে বড় চুক্তি শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের পরিবারের পাশে জামায়াত আমির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি হরমুজ প্রণালির কাছে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া মেডিকেল প্রমোশন অফিসার পদে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে বিশাল নিয়োগ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে চীনের দূতের সঙ্গে ড. আল-খুলাইফির ফোনালাপ সম্পদ মানুষের চরিত্র বদলে দেয় কি? শিক্ষণীয় ঘটনা রাজধানীর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণ লাইপজিগের বিপক্ষে ফের গোল করে ইতিহাস গড়লেন হলান্ড ঘরে বসেই জানুন পৈতৃক জমির হালনাগাদ তথ্য উৎসবমুখর পরিবেশে টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ডিএসসিসির ২৯টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে, লার্ভা মিলল ৩২২ বাড়িতে আন্দোলন দমনে বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশুলিয়ায় ফের শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭০ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা এআই উদ্ভাবনে সক্ষম দেশে রূপান্তর প্রয়োজন: রাষ্ট্রপতি ধামইরহাটে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৮ কাতারে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ট্রাফিক আইন জারি পুলিশের: শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতার মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে চীনের সাথে বড় চুক্তি শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের পরিবারের পাশে জামায়াত আমির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি হরমুজ প্রণালির কাছে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া মেডিকেল প্রমোশন অফিসার পদে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে বিশাল নিয়োগ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে চীনের দূতের সঙ্গে ড. আল-খুলাইফির ফোনালাপ সম্পদ মানুষের চরিত্র বদলে দেয় কি? শিক্ষণীয় ঘটনা রাজধানীর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণ লাইপজিগের বিপক্ষে ফের গোল করে ইতিহাস গড়লেন হলান্ড ঘরে বসেই জানুন পৈতৃক জমির হালনাগাদ তথ্য উৎসবমুখর পরিবেশে টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ডিএসসিসির ২৯টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে, লার্ভা মিলল ৩২২ বাড়িতে আন্দোলন দমনে বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর