রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির নতুন চালান আজ শুক্রবার রাতে বিশেষ বিমানে করে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। পূর্বে এই জ্বালানি শুক্রবার দুপুরে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সময় পরিবর্তন করে রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক জ্বালানি নিরাপদে খালাস ও পরিবহনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপর শনিবার (৩ অক্টোবর) কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় এই জ্বালানি পাবনার রূপপুর প্রকল্পে নিয়ে যাওয়া হবে। শুক্রবার দুপুরে দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এক দফা সময় পরিবর্তন করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঢাকায় পৌঁছাবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এবারের চালানে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং কাজের জন্য দুটিসহ মোট নয়টি কার্গো বিমানে করে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন (রসাটম) আশ্বস্ত করেছে যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের সব জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানটি কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার রুট প্ল্যান রয়েছে। বৃহস্পতিবার এই পরিবহন প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও বিশেষ কারণে তা একদিন পিছিয়ে যায়। তবে বর্তমানে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে আর কোনো জটিলতা নেই।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আগেই জ্বালানি লোড করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া বিনামূল্যে এই জ্বালানি সরবরাহ করবে এবং এরপর প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাংলাদেশকে আমদানি করতে হবে। প্রায় দেড় বছর সচল থাকার পর প্রথম ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির চার ভাগের এক ভাগ পরিবর্তন করতে হবে বলেই এই আগাম জ্বালানি আনা হচ্ছে। রূপপুরের দুটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও কারিগরি জটিলতায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। চলতি মাসে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে গত বুধবার সেফটি ভালভের মেরামতকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে বলে এনপিসিবিএলের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পূর্বে প্রথম ইউনিটে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। এই পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিংয়ের কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

















