শুক্রবার দুপুরে দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ বা তেরঙ্গা ওড়াও মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগে দিল্লি পুলিশ তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে তার বাসভবন থেকে আটক করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো আটকের ঘটনা। এর আগে গত শনিবার মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে নামার পরপরই তাকে আটক করা হয়েছিল। এছাড়া এদিন মানডি হাউসের কাছ থেকে মিছিল করার সময় আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় কারচুপির অভিযোগ তুলে সিজেপি ও বিভিন্ন বিরোধী ছাত্র-যুব সংগঠন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙ্গা ওড়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে কংগ্রেসও সমর্থন জানিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিজেপির দুই নেতাকে তিহাড় জেলে পাঠানোর প্রতিবাদে ঘোষিত এই কর্মসূচি ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়। এনডিএমসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।
আটকের আগে দুপুরে পুলিশ অভিজিৎ দীপকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচি পালন না করার বার্তা দেয়। এ সময় দীপকে পুলিশকে প্রশ্ন করেন, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আছে কি না। পুলিশ তাকে একটি নোটিশ প্রদর্শন করে, যেখানে তার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। দীপকে সেই নোটিশের ভাষার সমালোচনা করে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি এমন কোনো সহিংসতায় উসকানি দেননি। তাকে জানানো হয় যে, অনুমতি ছাড়া মিছিল করা বিধিনিষেধের পরিপন্থী এবং জাতীয় পতাকা বিধি বা ‘ফ্ল্যাগ কোড’ অনুযায়ী পতাকার সম্মান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েরেছ, কাঁধে ছোট একটি জাতীয় পতাকা জড়িয়ে, সোফায় বসে থাকা অভিজিৎ তার সামনে বসা পুলিশকর্মীকে প্রশ্ন করছেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ এনেছেন। দীপকে তাকে দেওয়া নোটিশটি পড়ে শোনান, যার একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, “আপনি (দীপকে) সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে আসছিলেন, যা বেআইনি। পুলিশকে উদ্দেশ্য করে দীপকে বলেছেন, “বরং আমাকে ফাঁসিই দিয়ে দিন না। নিজের বাড়িতে থাকা অবস্থায়, যখন অন্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন, তখন দীপকে তাদের এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। দীপকেকে আরও জানানো হয়েছে যে, তেরঙা পতাকা বহন করা আইনত অপরাধ নয়, তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল বের করা বা ভিড় জমানো বিধিনিষেধের লঙ্ঘন এবং এর জন্য পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তদন্তকারীরা তার ওপর নজর রাখছেন।
দিল্লি পুলিশ কনট প্লেস ও এর আশপাশের এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’-এর ১৬৩ ধারার অধীনে ১১ জনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি সামাল দিতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৬,০০০-এরও বেশি দিল্লি পুলিশ কর্মী এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের (সিএপিএফ) ২২০টি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থান, যেমন- রাজীব চক, যন্তর মন্তর, পালিকা বাজার ও মেট্রো স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি ও বর্ধিত সিসিটিভি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং যন্তর মন্তরের পথে থাকা অন্যতম প্রধান ব্যবসার কেন্দ্র ‘কনট প্লেস’ ও এর আশপাশের এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (-এর ১৬৩ ধারার অধীনে ১১ জনের বেশি জমাযেতে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিকেল ৫টার প্রস্তাবিত মিছিলের আগে অন্যান্য জেলা থেকেও অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। উৎসবের মরসুমে ব্যবসার ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
এই বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধে আইনি হস্তক্ষেপ চেয়ে করা আবেদন সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করেনি। আদালতের বেঞ্চ জানিয়েছে, তারা আশা করে শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করেছে যাতে সাধারণ মানুষের কোনো প্রকার অসুবিধা না হয়। সিজেপি জানিয়েছে, এই ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় তাদের একটি ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাংবাদিক সম্মেলনে দীপকে তার গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে কারাগারে যেতেও প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন।

















