ভোলার মনপুরা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদরাসাটি ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার আগের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মনপুরা সদর এলাকায় অবস্থিত হলেও দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় পার করে এসেও কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে তাদের পাঠদান কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মাদরাসাটির দীর্ঘদিনের কার্যক্রম মূলত টিনশেড ঘরের ওপর নির্ভরশীল। ২০০২ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রথম একটি একতলা পাকা ভবন নির্মিত হয় এবং ২০২০ সালে দ্বিতীয় আরেকটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে এই সামান্য অবকাঠামোর বাইরে এখনো টিকে রয়েছে পুরোনো ও জরাজীর্ণ টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো। এমনকি নির্মিত পাকা ভবনগুলোর একটির অবস্থাও বর্তমানে বেশ নাজুক। কয়েক দফা মেরামতের চেষ্টা করা হলেও সামগ্রিক সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষ করে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো এখন এতটাই জরাজীর্ণ যে- বর্ষা মৌসুমে সেখানে পাঠদানে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে সব মিলিয়ে মাত্র ১১টি কক্ষ রয়েছে। অধ্যক্ষের কার্যালয়, শিক্ষক মিলনায়তন এবং আইসিটি ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় কক্ষের হিসাব মিলালে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আলিম পর্যায়ের পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া দুষ্কর। শিক্ষার্থী মো. ইমরান ও মাহবুবা আক্তার জানান, বর্ষাকালে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে ক্লাস করা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে এবং জানালা না থাকায় বৃষ্টির ছাঁট ভেতরে ঢুকে বইপত্র নষ্ট হয়। এছাড়া মেয়েদের জন্য কোনো কমন রুম না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান কক্ষ সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। শ্রেণিকক্ষগুলোর অনেকগুলোতে জানালা নেই। শিক্ষার্থী মো. ইমরান বলেন, আমাদের মাদরাসার টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলোতে বর্ষার সময় ক্লাস করা খুব কষ্টকর। আবার অনেক কক্ষে জানালা না থাকায় বাইরে থেকেও পানি আসে। অনেক সময় একই কক্ষে দুই শ্রেণির ক্লাসও নিতে হয়।
মাদরাসাটি মনপুরা উপজেলার এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষা চলাকালীন অতিরিক্ত কক্ষের প্রয়োজন হওয়ায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের সুযোগ কমে যায়, যা সংকটের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয়দের আক্ষেপ, মনপুরার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এই পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘসময় ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকে অবহেলিত। আশপাশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন হলেও এখানে এখনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষের ওপরই বড় নির্ভরতা রয়ে গেছে।
অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোসলেউদ্দিন জানান, পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরোনো জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাড়তি চাপ সামলাতে প্রতিষ্ঠানটিতে জরুরিভিত্তিতে নতুন একটি ভবনের প্রয়োজন। দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নত হবে বলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মনে করছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, মাদরাসাটিতে একটি নতুন ভবন দেওয়া হোক।

















