যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ সংলাপ ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কাতার। এই দুই বৈরী দেশের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসন ও একটি টেকসই কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতার যৌথভাবে মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-হাশেমি মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন একটি মজবুত ভিত্তি তৈরির কাজ চলছে, যা ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দোহার এই মধ্যস্থতার প্রক্রিয়াটি নিরবচ্ছিন্ন এবং কোনো পর্যায়েই এর ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়নি।
চলমান এই কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি বর্তমানে কাতার সফর করছেন। এই সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময় ভূপাতিত ইরানি বিমান ও পাইলটদের উদ্ধারকার্য পরিচালনার নিমিত্তে দোহায় একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান।
আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে কাতারি মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপকে কাতার সাধুবাদ জানায়। এ সময় তিনি তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সমন্বয়ে গঠিত ‘মাক্কাহ অ্যালায়েন্স ফর ডিফেন্স’ বা মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এই জোটটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের পবিত্র স্থান ও বেসামরিক অবকাঠামোগুলোতে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। রিয়াদের অখণ্ডতা এবং ভূখণ্ডগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তার প্রতি দোহার পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখপাত্র ইব্রাহিম আল-হাশেমি।

















