সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি এবং ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এই বিঘ্নের ফলে প্রায় ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। আগের দিন বুধবার পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ১০০টি ফ্লাইটে ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী। সময়ের সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের সংখ্যা ও যাত্রীর দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। এরপর ঢাকা থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে থাকে। এ ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি যাত্রীরা।
বেবিচকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত ১০৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি সরাসরি এবং ৬১টি ট্রানজিট রুটের। সরাসরি ফ্লাইটের তালিকার মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলার ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৮টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের তালিকায় রয়েছে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৩টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট। বেবিচকের তথ্যমতে, ১০৩ ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি সরাসরি ও ৬১টি ট্রানজিট।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সাম্প্রতিক এসব হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অনেকে। এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে বিমান চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। একইসাথে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

















