মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিরতার ফলে জ্বালানি সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত সরকার তাদের এলএনজি আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির কাঠামোর আওতায় আনার একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। কাতার এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেডের গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার বিবেক মিত্তাল জানিয়েছেন, ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদী এলএনজি সরবরাহ চুক্তিতে গ্যাসের উৎস বাড়ানোর বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বর্তমানে কাতার ভারতের বৃহত্তম এলএনজি সরবরাহকারী দেশ। কাতারের সঙ্গে পেট্রোনেটের বার্ষিক ৭৫ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি আমদানির যে চুক্তি রয়েছে, তার মেয়াদ ২০৪৮ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে। এই নতুন চুক্তির অধীনেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগৃহীত গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজির (পিএলএনজি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। ২০২৮ সালের এপ্রিলে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও ২০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কাতারও বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। গত মাসে কাতারএনার্জি যুক্তরাষ্ট্রের উডসাইডের সঙ্গে ২০ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে ২০৩০ সাল থেকে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনা হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চেনিয়ের এনার্জির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় ২০৫৪ সাল পর্যন্ত বছরে আরও ৪০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কাতার এসব উৎস থেকে কেনা গ্যাসের একটি অংশ ভারতকে সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবিন পাস ও করপাস ক্রিস্টি স্থাপনা থেকে এসব গ্যাস সরবরাহ করা হবে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতি আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় হামলার ঘটনা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত মার্চ থেকেই কাতার চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না, যা ডিসেম্বরের আগে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোনেট এলএনজি ওমান, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো বিকল্প দেশগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে, কাতার থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় তিনটি গ্যাসবাহী জাহাজের ভাড়া চুক্তিও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

















