যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ৫৪৮ জন বন্দির মৃত্যুদণ্ড রহিত করে তাদের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক ইতিহাসে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সাজা লাঘবের ঘটনা এটিই প্রথম। বৃহস্পতিবার রাতে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যত অঙ্গরাজ্যটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দীর্ঘমেয়াদি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এসব বন্দির আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে এবং তাদের প্যারোলে মুক্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।
গভর্নর নিউসম এক খোলা চিঠিতে তার এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় মদদে প্রাণদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি ক্যালিফোর্নিয়ার মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, মৃত্যুদণ্ড বিচারব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল করার পাশাপাশি সমাজের সামগ্রিক মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করে। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত দুই দশক ধরে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। গভর্নর নিউসমের এই একক পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো দেশজুড়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ হ্রাস পাবে। ক্যালিফোর্নিয়ায় গত ২০ বছর ধরে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।
ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের (ডিপিআইসি) তথ্যমতে, ১৯৭৮ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়া মৃত্যুদণ্ড প্রক্রিয়ার পেছনে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, অথচ এই দীর্ঘ সময়ে কার্যকর হয়েছে মাত্র ১৩টি মৃত্যুদণ্ড। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক রবিন মাহের এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে সাজা মওকুফের এই কার্যক্রমের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্টের পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে। অথচ এ সময়ে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে নিরপরাধ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। ১৯৭৩ সাল থেকে দেশটিতে অন্তত ২০৩ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পেয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডবিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন যে, এই শাস্তির কার্যকারিতার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই এবং এর বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়ের পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়ায় বর্ণবৈষম্যসহ নানা ধরনের অসংগতি রয়ে গেছে।

















