পোশাকশ্রমিকদের সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময় অর্থ ও জনবল দিয়ে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীসহ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দের জন্য নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জাতীয় স্বার্থে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) গত বৃহস্পতিবার দেশের সকল ব্যাংকে ই-মেইলের মাধ্যমে এই জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক লেনদেন স্থগিতের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) দেশের সব ব্যাংকে ই-মেইলের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোতে সম্ভাব্য তালিকা পাঠানো হয়েছে।
তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এর বাইরেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের নেতাদের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এনবিআরের একটি সূত্র জানিয়েছে, তালিকার ব্যক্তি সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে কারণ এটি নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে। এর আগেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা অন্যান্য সংস্থাও তালিকাভুক্ত অনেক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের জন্য আবেদন জানিয়েছিল।
তালিকায় থাকা অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর মালিকদের মধ্যে ফয়জুর রহমান বাদল, আবদুস ছালাম, খসরু চৌধুরী, জাহিদ আহমেদ টুলু, এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও মাসুমা খাতুন লিপার ব্যাংক হিসাবও জব্দের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এদিকে মিরপুরের পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম মান্নান কচি এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাবও জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, কর্মী কামাল গাজী এবং শুভ নামের ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব নিয়েও কাজ করছে এনবিআর।
এর আগে গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক আয়োজনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব জানিয়েছিলেন, ৩৪ জন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও বর্তমানে প্রাথমিক তালিকার বাইরে আরও অনেক নাম যুক্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও এর আগে সচিবালয়ে জানিয়েছিলেন যে, পোশাক খাতের অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদদের ইন্ধনের তথ্য সরকারের হাতে রয়েছে। একইসঙ্গে কয়েকজন শিল্পমালিকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

















