বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দ্বিতীয় দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, আদালতে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় দিশা ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তদন্তের খাতিরে সেই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, দিশা বেশ চতুর হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনেক প্রশ্নের উত্তর কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং নিরবতা পালন করেছেন। একই মামলায় আরেক সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উন্মোচনের জন্য দিশা ও দীপের দেওয়া জবানবন্দি ক্রসচেক করা প্রয়োজন। এছাড়া নিহত তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট থেকে দিশার সঙ্গে তার কথোপকথনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে দিশার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া জামিনে মুক্তি পেলে আসামি পলাতক হয়ে তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হতে পারে বলেও তদন্ত কর্মকর্তা জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ সাউরি। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম গত ৩০ অক্টোবর রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ দীপ ও দিশাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে। গত ৩১ অক্টোবর রাজধানীর কাফরুল থেকে গ্রেফতারের পর দিশাকে ১ নভেম্বর চার দিন ও ৪ নভেম্বর আরও তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

















