ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ও লাগেজ-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় মুক্তি পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। গ্রেপ্তারের এক মাস পর আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বাইরে আসেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার গোলাম ফারুক সাবেক এই সংসদ সদস্যের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কারাফটকে তাঁর পরিবারের সদস্য এবং দলীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা তৈরি ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে গত ১ অক্টোবর রাতে বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর পরদিন ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়ায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানান আখতারুজ্জামান। গত রোববার শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারির পাশাপাশি তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিন আদেশ স্থগিতের আবেদন জানালেও গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। ফলে তাঁর মুক্তির পথ সুগম হয়। রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাসিন্দা আখতারুজ্জামান রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘ সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন।
একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করা আখতারুজ্জামান দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। এর পর বিভিন্ন সময় টক শো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মন্তব্য দিয়ে চর্চায় ছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তবে তাঁর গ্রেপ্তারের পেছনে বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার রাজনৈতিক ক্ষোভ কাজ করেছে বলে জামায়াত নেতা পরওয়ার দাবি করেছিলেন।

















