ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতা হারাবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন কক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভারতের কেরালা রাজ্যের কোচিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি দেশবাসীকে সরকার পরিবর্তনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই এই সরকার বিদায় নেবে এবং জনগণের রায়ই তাদের ক্ষমতার সমাপ্তি ঘটাবে। বিজেপির পক্ষ থেকে নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে করা দাবির প্রসঙ্গ টেনে দীপকে বলেন, ‘২০২৯ সালের জন্য প্রস্তুত থাকুন। ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শের কথা উল্লেখ করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা।
সমাবেশটি মূলত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আয়োজিত হয়েছিল। অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরে যেতে হবে, আর তিনি চলে গেলেই নরেন্দ্র মোদিরও বিদায় ঘণ্টা বেজে যাবে। এছাড়া তিনি তরুণ প্রজন্মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন এবং জানতে চান প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে কেন জ্ঞানেশ কুমার এতোটা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
নিজের কারাবাস ও রাজনৈতিক হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে সিজেপি নেতা বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রবেশের সময় সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার সঙ্গে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন যে, কারাবাস বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তাঁকে জাতীয় পতাকা বহন ও দেশের কথা বলা থেকে বিরত রাখা সম্ভব নয়।
সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ব্যক্তিগত ও ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের কঠোর অভিযোগ এনে তিনি বলেন, খাদ্যাভ্যাস, বিয়ে এবং ভালোবাসার স্বাধীনতার পর এখন সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভারতীয় গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলকে অধিকতর গণতান্ত্রিক ও মুক্ত বলে মন্তব্য করেন। সমাবেশে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ নাগরিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। এর আগে মেরিন ড্রাইভ থেকে রাজেন্দ্র ময়দান পর্যন্ত আয়োজিত মিছিলে নেতৃত্ব দেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ।

















