ইসরাইলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আগামী রবিবার চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। নির্বাচনের পর টানা দুই দিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী নেতা ও সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকট—কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বৃহস্পতিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন হারজগ। এ জন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করব।’। যদিও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা একাধিকবার জানিয়েছে দলগুলো।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং সাধারণত পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পাওয়া নেতাকেই তিনি এই দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গাদি আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন সংসদ সদস্য সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন সংসদ সদস্য। বাকি সাতজন কোনো পক্ষকেই সমর্থন করেননি।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট হারজগ জানিয়েছেন, আলোচনার ফলাফল দেখে বিষয়টি স্পষ্ট মনে হলেও সরকার গঠনের সক্ষমতা কার রয়েছে, সেই আইনি দায়িত্ব তার ওপরই বর্তায়। বিভিন্ন দলের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধের কারণে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তিনি সরাসরি ও দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে দলীয় নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনার পরিকল্পনা করেছেন।
বিরোধী দল ইয়াশার এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইসরাইলি জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং নেতানিয়াহুর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সব নাগরিকের জন্য কাজ করতে দ্রুত একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠন করা প্রয়োজন।
নির্বাচনে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলোর ভূমিকা এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দেশটিতে মোট ১৯টি আসন জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এই আরব দলগুলো। লিবারম্যানের অভিযোগ, আরব দলগুলো হামাসকে স্পষ্টভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেনি।
উভয় প্রধান জোটই তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে। ফলে রাষ্ট্রের ওপর তাদের আর্থিক ও সামাজিক চাপও বেশি।
তবে আইজেনকটের মিত্র হিসেবে পরিচিত ডানপন্থি দল ইসরাইল বেইতেনু আরব দলগুলোর সমর্থিত কোনো সরকারে থাকতে রাজি নয়। তাদের নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর হামাসবিরোধী অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে দেশজুড়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। অতি-ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবার হারজগের কাছে নেতানিয়াহুর নাম সুপারিশ করেনি, আবার আইজেনকটকেও সমর্থন দেয়নি। প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানিয়েছে, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সাত আসন পাওয়া এই দলটি কাউকে সরকার গঠনের সুপারিশ করেনি। ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে দলটির আসনসংখ্যা সাত।
দীর্ঘদিন ধরে অতি-ধর্মীয় দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সামরিক দায়িত্ব থেকে ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। নেতানিয়াহু এই বিষয়টি মেনে নিলেও তা আইনে পরিণত করতে পারেননি। গাজা, লেবানন ও ইরান সীমান্তে যুদ্ধের কারণে রিজার্ভ সেনাদের ওপর চাপ বাড়ছে, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এদিকে বিরোধী নেতা আইজেনকট সামরিক সেবার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। গত তিন বছর ধরে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইসরাইলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
নতুন পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটের আসন সংখ্যা ৫৩, যেখানে আইজেনকটের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নেতা ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো সম্ভব হবে। এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠন ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। তাদের মতে, ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের হলেও তাদের জন্মহার তুলনামূলক বেশি।
নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি নীতির কারণে সৃষ্ট বর্ণবাদ ও বৈষম্যের অভিযোগের মুখেও তিনি নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। বুধবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে বিদেশি শক্তি অর্থ বিনিয়োগ করেছে, যা তার সন্দেহের উদ্রেক করেছে। এছাড়া আরব নাগরিকদের আনুগত্য নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

















