ভারতের আসামের ধুবড়ি জেলায় বাঙালি মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
গত রোববার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় ৫৫০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। আলমগঞ্জের নবম ব্লকের প্রায় ৬৫০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত ঘরবাড়ি ও স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিতে কর্তৃপক্ষ ৫০টিরও বেশি বুলডোজার ব্যবহার করে। উচ্ছেদকৃত ওই এলাকায় প্রায় চার হাজার মানুষ বসবাস করতেন। উচ্ছেদ চলাকালে বাসিন্দারা ‘কামেল পীর সাহাবুদ্দিন আউলিয়া মাজার’-এ প্রার্থনা করে মাজারটি ভাঙার প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানান।
ধুবড়ি জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ জানিয়েছেন, প্রায় ৬৫০ বিঘা জমি খালি করার প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, পুরো এলাকাটি ৮০০ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এবং সেখানে প্রায় ৮০০টি পরিবার বসবাস করে। তবে এর মধ্যে প্রায় ১৬০ জন আবেদনকারীর জমি সংক্রান্ত মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। প্রশাসন এখন গুয়াহাটি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং আদালতে হলফনামা জমা দেওয়া হবে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে চালানো এই অভিযানকে জেলা কমিশনার ‘শান্তিপূর্ণ’ হিসেবে দাবি করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির বিষয়ে প্রায় ১৬০ জন আবেদনকারীর মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।’। ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি এই অভিযানকে ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেন।
প্রশাসনের তথ্যমতে, উচ্ছেদের আগেই প্রায় ৮০ শতাংশ বাসিন্দা নিজস্ব উদ্যোগে মালামাল নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। জমির প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া উচ্ছেদের কয়েক দিন আগে বাড়িগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হন। তবে কিছু পরিবার আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকারের আশায় সেখানে থেকে গিয়েছিল, যাদের মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
অভিযান পরিচালনার সময় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, স্কুল ভবন, মাজার এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙা হয়নি। আসামে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে এমন উচ্ছেদ কার্যক্রম চলছে। এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নাগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় দুই দিনের অভিযানে বনভূমি থেকে প্রায় ১১শ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার গোষ্ঠী এই ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযানকে স্থানীয় বাঙালি মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করে চালানো বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে অভিহিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে বলেছে যে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাঙালি মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বর্ণবৈষম্যের সমতুল্য হতে পারে।

















