খুলনার রূপসা উপজেলার সিংহেরচর এলাকায় অবস্থিত আলম মেম্বারের নদীর ঘাট থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর আগে নদীর কাদার মধ্যে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা, কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় দ্বিতীয় মরদেহটিও ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে রূপসা থানা পুলিশের একটি দল উদ্ধার তৎপরতা চালায়। খুলনায় ২০ ঘন্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের পর এবার রূপসা উপজেলায় নদীর ঘাট থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিশেষ করে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির মাথায় রক্তাক্ত ক্ষত থাকায় তাদের মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ সময় নদীর দুই পাড়ে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জোয়ারের পানিতে ভেসে মরদেহ দুটি ওই এলাকায় আসতে পারে। নিহতদের একজনের বয়স ৩০ থেকে ৩২ এবং অন্যজনের ৪০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, মরদেহ দুটি নদীর চরে আটকে ছিল এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। উভয়ের মাথায় রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে, তবে এই জখমগুলো কীভাবে হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এছাড়া উপস্থিত একজন দাবি করেছেন, নিহতদের একজনকে তিনি ওই ঘাটের ট্রলারচালক হিসেবে চেনেন, তবে অন্যজনের পরিচয় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গত কয়েক দিনে খুলনায় অপরাধের হার বৃদ্ধিতে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় আড়ংঘাটা থানার রায়মহল এলাকায় নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বসে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁতী দলের নেতা সৈয়দ হুমায়ুন কবির নিহত হন। তার আগের দিন শনিবার রাতে মহানগরীর দারোগাপাড়া এলাকায় চাপাতির কোপে শহিদুল (৩৫) নামে এক যুবক খুন হন। পরপর এই ঘটনাগুলো ও নদী থেকে রহস্যজনকভাবে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

















