শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং উদ্ভাবনী শক্তিকে উৎসাহিত করতে কাতারের দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হলো ‘বিজ্ঞান মেলা ও চারু-কারুকলা প্রদর্শনী ২০২৬’। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই উৎসবমুখর আয়োজনে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান ও কল্পনাশক্তিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরি বিপুল সংখ্যক প্রকল্প ও চিত্রকর্ম স্থান পায়। এর মধ্যে প্রভাতী শাখার কেজি-১ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৩০০টিরও বেশি চারু ও কারুকলার শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়। অন্যদিকে পঞ্চম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের বিজ্ঞান বিষয়ক ১৯৫টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এছাড়া দিবা শাখার প্রাথমিক পর্যায়ের ১৫০টি চিত্রকর্ম এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আরও ৭৫টি সৃজনশীল চিত্রকর্ম প্রদর্শনীকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মোঃ ওয়ালিউর রহমান। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুদানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ইউসুফ আলতাহির, প্যালেস্টাইন স্কুলের অধ্যক্ষ ড. আব্দেল মুসলেহ, ব্রাইট ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আলী জুলকারনাইন এবং শ্রীলংকান স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিস্টার জিওয়ানথা ও মিস্টার চামারা। স্থানীয় কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরাও এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওয়ালিউর রহমান শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ও সৃজনশীল কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসাথে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ জানান, শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও অর্থবহ করে তোলে।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইশতিয়াক আহমদ, দাতা সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী, গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহমুদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল হক এবং অভিভাবক-শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মোঃ ফিরুজ আহমদসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিটি প্রকল্প ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভার উজ্জ্বল সাক্ষর রেখেছে।

















