প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর নির্বিঘ্ন করতে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফরকে ঘিরে পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২০ হাজারের বেশি সদস্য মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সফর ঘিরে সিএমপির বিভিন্ন ইউনিটকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিয়মিত টহল ও পরিদর্শনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি নগরের রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপে যাবেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাবেন। সবশেষে রাত পৌনে ৮টার দিকে বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নির্দেশনায় প্রটোকল অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল মণ্ডপটি পরিদর্শন করেছে এবং এ সময় প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ ব্যবহার করা হয়।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় ইউনিফর্মধারী পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনসমাগমস্থল এবং প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতসংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ নজরদারি চলছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলাজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে এই নিরাপত্তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনসমাগমস্থল ও প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতসংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগর ও জেলাজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৬০০টি পূজামণ্ডপকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কার্যক্রম চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপতৎপরতা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সিএমপি কমিশনারের মতে, শান্তিপূর্ণ উৎসব পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মূলত প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখা, দুর্গাপূজার উৎসবমুখর পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখাই এই নিরাপত্তা প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

















