রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরুর কোনো বিভাজন থাকবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা আদর্শের ভিন্নতা নয়, আমাদের একমাত্র পরিচয় হবে আমরা সবাই বাংলাদেশি। রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখেন এবং সরকার তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের এই অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। সকাল ৬ টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ। মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া মানেই নতুন আশার আলো, অশুভের বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়।
শনিবার সকাল ৬টার দিকে মাহদী আমিন বনানী মাঠে পৌঁছালে পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। শুভ মহালয়ার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে যেন বৈষম্যের শিকার হতে না হয়, সেটাই আমাদের কাম্য। প্রতিটি মানুষ যাতে স্বাধীনভাবে মর্যাদা নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
মাহদী আমিন জানান, এবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পূজার সরকারি ছুটিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, আমাদের বৈচিত্র্যই হলো শক্তি। বিদ্বেষের বদলে ভালোবাসা এবং বিভাজনের বদলে ঐক্যের মাধ্যমে একটি মানবিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা পেছনে ফেলে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
দেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাই সরকারের চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। তিনি বলেন, আমরা বলি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। সবশেষে তিনি মহালয়ার বার্তা ধারণ করে সবাইকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সনাতনী সমাজের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন। পরে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। সুন্দর ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের জন্য তিনি গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

















