সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে নিজের ব্যাটিং নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখলেন তাওহিদ হৃদয়। দলের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের দিনে একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ৩০৪ বল মোকাবিলা করে ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কার সাহায্যে তিনি ২০০ রানের এই মহাকাব্যিক ইনিংসটি সাজিয়েছেন। কঠিন চাপের মুখে হৃদয়ের ধৈর্য ও দৃঢ়তায় টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য এটি ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক। ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৯টি চার ও ৭ ছক্কায়। এক প্রান্তে উইকেটের পতন, অন্য প্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এর আগে ডাবল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। এর মধ্যে মুশফিকুর রহিম তিনটি, আর তামিম ও সাকিব একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। হৃদয়ের হাত ধরে এবার বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে এই তালিকায় নাম যুক্ত হলো। এছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। এর আগে ২০২১ সালে মুমিনুল হকের করা ১১৫ রান ছিল এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নেমে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করেছিল। সফরকারীদের সেই ইনিংসের জবাবে বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তিনি ৯০ রানের বিনিময়ে ৬টি উইকেট শিকার করে সফরকারী ব্যাটারদের চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। দলের বোলারদের সেই পরিশ্রমের পর ব্যাটিংয়ে হাল ধরেন হৃদয়। বাংলাদেশের হয়ে ৯০ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দারুণ বোলিং করেন হাসান মাহমুদ।
ব্যাট হাতে শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর বড় আশা দেখছে। তার এই ধৈর্য ও সাহসের প্রদর্শনী সিলেট টেস্টের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, যা বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। দল এখন তার এই ইনিংসকে পুঁজি করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বুনছে।

















