দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভুল তথ্যের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশে মোট ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল বা অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। কেবল চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ১৮৯টি ভুয়া তথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। শনাক্তকৃত এসব অপতথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক প্রকৃতির। এর আগের দুই প্রান্তিকে সংখ্যাটি ছিল ৩০৫। এই পরিসংখ্যান রিউমর স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর উপর ভিত্তি করে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে গত ৯ মাসে অন্তত ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ কনটেন্টই ছিল নেতিবাচক। এছাড়া বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঘিরে মোট ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৯৭ শতাংশই নেতিবাচক প্রচারণার অংশ ছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণ করা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকেও নিয়মিত অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তৃতীয় প্রান্তিকে সরকার, সরকারের শীর্ষ পর্যায় এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের জড়িয়ে ১৮৬টি অপতথ্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ সংখ্যা ছিল ৩০৫টি। সব মিলিয়ে তিন প্রান্তিকে বিএনপি সরকারকে জড়িয়ে মোট ৪৯১টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার প্রায় সাড়ে ৯২ শতাংশই সরকারের জন্য নেতিবাচক ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিয়মিত অপতথ্যের শিকার হচ্ছেন এই সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গণমাধ্যমের নাম, লোগো এবং শিরোনাম ব্যবহার করে অপতথ্য প্রচারের প্রবণতা বিশেষ করে বছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটোকার্ডের আড়ালে অপপ্রচার কমার পরিবর্তে বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে চলমান গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে রিউমার স্ক্যানার নিয়মিত এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে।

















