বাংলাদেশকে একটি সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, অপরাধে জড়িতদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান বা বৌদ্ধ—সবাই সমান নাগরিক। যারা যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা কিংবা অপরাধে জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এখানে যারা অপতৎপরতা চালাবে তারা সকলেই আমাদের শত্রু। এখানে কার কি আইডেন্টিটি সেটা আমাদের কাছে বড় ব্যাপার নয়। যে অপরাধ করবে, তাকে তার শাস্তি পেতে হবে।
সারাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এসআরবি। ডিজি জানান, মহাষষ্ঠী দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে। পূজা চলাকালীন প্রতিদিন সারাদেশে এসআরবির ২,৪৫৭ জন সদস্য সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১৫টি ব্যাটালিয়নের ৬ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে দৈনন্দিন ৫৪৯টি পিকআপ টহল ও ৪৪৭টি মোটরসাইকেল টহল পরিচালিত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কোনো নাশকতার হুমকি না থাকলেও বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং ডগ স্কোয়াডকে সতর্ক রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কগুলোতে প্রতিদিন ৫৪৯ টি পিকআপ টহল এবং ৪৪৭ টি মোটরসাইকেল টহল চলমান রয়েছে।
মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করছে সংস্থাটি। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা তদারকির পাশাপাশি পুরো পরিস্থিতি মনিটরিংয়ে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া পূজাকেন্দ্রে ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ বিনষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি চক্রের গুজব ছড়ানোর চেষ্টার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন মহাপরিচালক। বিভ্রান্তি রুখতে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি ও ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসআরবি মহাপরিচালক বলেন, উৎসবের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা চালায়।
মণ্ডপে আসা নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার ও ইভটিজিং রোধে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি। একই সঙ্গে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের নির্ধারিত রুটগুলোতে বিশেষ টহল থাকবে এবং বিসর্জন সুষ্ঠুভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসআরবি সদস্যরা মণ্ডপ ও ঘাটগুলোতে নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি নাগরিক যেন নিশ্চিন্তে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংস্থাটি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছে বলে জানান এসআরবি ডিজি। পূজার প্রতিটিদিন দেশব্যাপী এসআরবির ২৪৫৭ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।

















