রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনে দুর্ঘটনায় সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। চোখেও ভালোভাবে দেখতেন না মোশাররফ হোসেন।
গত শুক্রবার সকালে ক্লাব চত্বরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ক্লাবটির একজন সদস্য হিসেবে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তিনি মেয়েকে সাঁতার শেখাতে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন। সুইমিংপুলের কাছে মেয়েকে রেখে তিনি ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়ার ভাষ্যমতে, অফিসার্স ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মোশাররফ হোসেন বারবার ভবনের ভেতরে ওপর-নিচ করছিলেন। দৃশ্যত তিনি চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বেজমেন্ট-১-এর লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তাঁকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোশাররফ হোসেন দীর্ঘ ১৫ বছর আগে স্ত্রীকে হারান। এরপর থেকে তিনি রাজধানীর বনানীর ৫ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর বড় মেয়ে সারিকা আজমির বিন্দু যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে তাসমিয়া মারজান শবনম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করেছেন এবং বাবার সঙ্গেই থাকতেন। স্বজনরা জানান, মোশাররফ হোসেনের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ ছিল, যা চলাচলে সমস্যা তৈরি করত। এখন বাবাকে হারিয়ে তাসমিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাসমিয়া মারজান বলেন, আগামীকাল সোমবার তাঁর বাবাকে মুন্সিগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হবে।
ঘটনার পর মোশাররফ হোসেনের ভাই মোতাহার হোসেন রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মোশাররফ হোসেনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভোগ গ্রামে। বড় মেয়ে সারিকা আজমির যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলে আগামী সোমবার গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন তাসমিয়া।
নিহতের ভগ্নিপতি জাকির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে তাসমিয়ার কান্না থামানো যাচ্ছে না এবং কোনো সান্ত্বনাই তাঁর শোক কমাতে পারছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে এই মৃত্যু নিয়ে কোনো সন্দেহ বা অভিযোগ নেই। মোশাররফ হোসেনের অকাল প্রয়াণে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্তে এটি দুর্ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মো. ইয়াছিন মিয়া। সেই বাবাই ছিলেন ২৮ বছর বয়সী তাসমিয়ার একমাত্র অবলম্বন। স্বজনদের সান্ত্বনাও থামাতে পারছে না তাঁর কান্না। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত বলে মনে হচ্ছে।

















